নদীটির নাম জাদুকাটা নদী

ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া জাদুকাটা নদীটি সুনামগঞ্জের একটি অপরূপ নদী। জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ নীল জল এতটাই স্বচ্ছ যে নদীর তীর থেকেই আপনি নদীর তলদেশ দেখতে পাবেন। নদীতীরে সবখানেই বড় পাথরখণ্ডের সাথে দেখা মিলবে আপনার। জাদুকাটা নদী থেকে বেশকিছু খালের সৃষ্টি হয়েছে যেগুলো সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে।

নদীটির পাশেই প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতার একটি টিলা রয়েছে। স্থানীয়রা এই টিলাটিকে বারিক টিলা বলে থাকে। এই টিলায় অবস্থিত পিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাদুকাটা নদী সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে অবস্থিত। একসঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘোরার প্রস্তুতি নিয়েই আপনাকে জাদুকাটার উদ্দেশে বের হতে হবে। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে। মামুন, হানিফ, শ্যামলী, ইউনিকসহ অনেক বাস এই লাইনে চলে। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের ভাড়া ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ থাকার ব্যবস্থা মোটামুটি। এখানে ৬ জন + টিম যাওয়াই ভালো। সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর যেতে হবে। দুইভাবে যাওয়া যায়। লেগুনাতে করে, ভাড়া পার পারসন ৮০ টাকা। বাইকে পার পারসন ১০০ টাকা।
তাহিরপুর যেয়ে নৌকা ভাড়া করতে হবে। নৌকার সাইজ অনুযায়ী ভাড়াও বিভিন্ন। নৌকায় রান্না করে খেতে চাইলে তাহিরপুর থেকে বাজার করে নৌকায় উঠতে হবে। সরাসরি জাদুকাটায় যেতে পারেন। আবার টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরেও জাদুকাটায় যাওয়া যায়। আমার পরামর্শ হবে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে টেকেরঘাট রাতযাপন।

টেকেরঘাটে হোটেলে থাকতে পারেন। থাকতে পারেন নৌকাতে। পরদিন লাকমাছড়া, লাইমস্টোন লেক ও টিলা ঘুরে মোটরসাইকেলে চলে যান বারিকটিলা। বারিকটিলা আর জাদুকাটা পাশাপাশি। টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে মনে ভালোলাগা তৈরি হবে। টেকেরঘাট থেকে জাদুকাটা যাওয়ার পথটুকু সে ভালোলাগার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ আর জাদুকাটা আপনাকে ভালো লাগার স্বপ্নময় জগতে পৌঁছে দেবে!

Post Copied From:Ataul Islam Masum>Travelers of Bangladesh (ToB)

নীলাদ্রি লেক

টেকেরঘাটের চুনাপাথরের পরিত্যক্ত খনির লাইমস্টোন লেক যা স্থানীয় ভাবে “নীলাদ্রি লেক” নামেই পরিচিত। একসময় এখান থেকেই চুনাপাথরের কারখানার কাঁচামাল সাপ্লাই করা হতো, ফলশ্রুতিতে লেকের গভীরতা অনেক বেশী। পাশেই সাইনবোর্ড টানিয়ে তাই সতর্ক করা হয়েছে। একটু দূরেই টহলরত বি.এস.এফ থেকে সাবধান থাকাটা জরুরি। (ঢাকা- সুনামগঞ্জ -তাহিরপুর- টেকেরঘাট)।

Post Copied From:Saikat Hussain‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

বিকল্প পথে টাংগুয়ার হাওর-টেকেরঘাট

গ্রুপে আজ পর্যন্ত যত গুলো টাংগুয়ার হাওর ট্যুর বিষয়ে পোস্ট দেখেছি তার সবগুলোই সিলেট দিয়ে।কিন্তু চাইলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা পথে আপনি চাইলে একদিনের মধ্যে প্রায় সবগুলো স্পট বেশ সময় নিয়ে কাভার করতে পারেন।যদি এক দিনের মধ্যে গ্রুপ করে যেতে চান,তাহলে স্বল্প খরচে এই রুট টা আমার মনে হয় বেশ উপযুক্ত।
প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ বাই ‘হাওর এক্সপ্রেস’,ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১ টা ৫০এ,মোহনগঞ্জ পৌছায় ভোর ৬ টায়।মোহনগঞ্জ পৌঁছানোর পর রেলস্টেশন থেকে সেদিন কার রাত ১১:৩০ টায় ছাড়া ঢাকা গামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকেট কেটে রাখুন,কাউন্টার খুলবে ৭ টায়।মাঝখানের সময় টা রেস্ট রুমে ফ্রেশ হতে আর নাস্তা করে নিতে পারেন।তারপর অটোরিকশা করে সেখান থেকে ধর্মপাশা যেতে ২০ মিনিট এর মত লাগবে,ধর্মপাশা থেকে লেগুনা ভাড়া করতে হবে,লেগুনায় করে রাস্তার দুই ধারে হাওর দেখতে দেখতে চলে যাবেন মধ্যনগর বাজার,সময় নিবে দেড় ঘন্টা।সেখান থেকে ট্রলার ভাড়া করে তিন/সাড়ে তিন ঘন্টা হাওর দেখতে দেখতে চলে যাবেন টেকেরঘাট নীলাদ্রি লেকের কাছাকাছি।এখানের সুবিধা হচ্ছে অনেক টা সময় হাওর দেখতে দেখতে যেতে পারবেন,আর এখানে নৌকার ভাড়াও বেশ কম,সবচেয়ে বড় নৌকার ভাড়াও ৪০০০/৪৫০০ এর বেশি হবে না,অনায়াসে এগুলা তে করে ২৫ জন ঘুরতে পারবেন।সেখানে নৌকা রেখে বাইকে করে তারপর বড়াইছড়া ঝরনা,বারেক টিলা,জাদুকাটা নদী ঘুরে আসা যাবে।দুপুরে খাওয়া দাওয়া ট্যাকেরঘাট বাজারে।
ফেরা শুরু করবেন বিকাল ৫ টায়,একইভাবে।লেগুনার নাম্বার রেখে দিলে তারা সময়মত মধ্যনগর থাকবে।সকাল নাগাদ ঢাকায় পোঁছে যেতে পারবেন।

Post Copied From:সাবরিন নাঈম সিয়াম>Travelers of Bangladesh (ToB)