আন্দামানের ছোঁয়া

কোলকাতা থেকে দুই ঘন্টা পনের মিনিটের বিমান যাত্রায় তেরশ কিমি পাড়ি দিয়ে আন্দামান ও নিকোবর রাজ্যের রাজধানী পোর্টব্লেয়ার পৌছালাম। আকাশ থেকে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে দেখছি সাগর আর পাহাড়ের মিতালি , আন্দামানের চার পাশে বঙ্গোপসাগর , আন্দামান সাগর আর ভারত মহাসাগরের অবস্থান। আন্দামান ও নিকোবর আইল্যান্ড এর একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর -বীর সাভারকার বিমানবন্দর , ছোট্ট কিন্তু ছিমছাম। বলে রাখা ভালো যে আন্দামানে প্রবেশের জন্য সব বিদেশিদেরই বিশেষ অনুমতি (RAP -রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া পারমিশন) নিতে হয়, যা খুবই অল্প সময়ে নিদৃষ্ট কাউন্টার এ ফর্ম পূরণ করে পাওয়া যায়।

এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল এ চেক ইন আর লাঞ্চ করেই ছুটলাম সেলুলার জেল এর উদ্দেশ্যে যা আমাদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। ব্রিটিশ শাসনের নির্মম সাক্ষী কালাপানি নামে পরিচিত এই সেলুলার জেল যা দীপান্তরিত হাজার হাজার বন্দীদের দিয়ে দীর্ঘ দশ (১৮৯৬-১৯০৬) বছরে নির্মাণ করা হয়েছিল। সাইকেলের চাকার আদলে তৈরি এই স্থাপনায় সাতটি উইংস এ মোট ৬৯৬ সেল , ওয়াচ টাওয়ার , কনডেম সেল ,ফাঁসিকাষ্ঠ ও আনুষাঙ্গিক স্থাপনা আছে। প্রতিদিন (সরকারি বন্ধ বাদে) সন্ধ্যা থেকে এর খোলা চত্বরে লাইট এন্ড সাউন্ড শো এর মাধ্যমে এই Unesco হেরিটেজের পুরো বিবরণ তুলে ধরা হয়। এই ধারাভাষ্যে ফুটে উঠে রাজবন্দীদের জীবন,মুক্তিসংগ্রাম ও ব্রিটিশ শাসকের নির্মমতা। এখানে বলা প্রাসঙ্গিক যে এই জেলে রক্ষিত রাজবন্দীদের তালিকার অধিকাংশই তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ যা প্রমান করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের অগ্রণী ভূমিকার কথা।

পরদিন সকালে আমরা গেলাম রস আইল্যান্ড যেখানে এই জেলের ব্যাবস্থাপনার সাথে জড়িত ব্রিটিশ অফিসার ও তাদের পরিবারবর্গের বিলাসী জীবন যাপন সম্মন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। রস এটি একটি ছোট্ট দ্বীপ যা মোটর বোট এ মাত্র দশ মিনিটে যাওয়া যায়।প্রাকৃতিক সৌন্ধর্য ও উন্নত জীবনযাপনের ব্যাবস্থাপনার জন্য এই দ্বীপ তখন প্যারিস অফ ইস্ট নামে পরিচিত ছিল যা এখনো দৃশ্যমান সুইমিং পুল , পানি শোধনাগার , ডিজেল জেনারেটার , ছাপাখানা ,চিত্রশালা , চার্চ, বেকারি , উন্মুক্ত মঞ্চ ও ক্লাব দেখে অনেকখানি অনুধাবন করা যায়।

দুই রাত তিন দিনের ইতিহাস ঘাটাঘাটি শেষে এবার নির্ভেজাল প্রকৃতির সন্ধানে আমরা রওনা দেই আন্দামান সাগরের দ্বীপ হাভেলকের উদ্দেশ্যে। ৮০ কিলোমিটার সমুদ্র্রপথ আধুনিক cruise শিপ এর কল্যানে মাত্র দুই ঘন্টার যাত্রা। জাহাজ থেকে নেমে দীর্ঘ জেটির পথ বিস্ময়ে ভরপুর -নিচে স্বচ্ছ পানি আর সাদা বালিতে রং বেরং এর অগণিত মাছের মেলা। এখানেও সময় বাঁচাতে হোটেলে চেক ইন আর লাঞ্চ করে আবার ও এক ঘন্টার ট্যাক্সি জার্নি শেষে রাধানগর বিচ -টাইম ম্যাগাজিন এর বিচারে এশিয়ার সেরা। আসলেই দেখবার মতো-নীল পানি,সাদা বালি আর ঘন বনের মিতালী। পরদিন সকালের গন্তব্য এলিফ্যান্ট বিচ , যেখানে অনিন্দসুন্দর বিচ এ মাঝে মাঝেই হাতির দেখা মেলে। নানারকম ওয়াটার স্পোর্টস এর সাথে ঠিক শেষ মুহূর্তে হাতির দেখা আমাদের ভ্রমণ কেও পরিপূর্ণ করে।

দুইরাতের হাভেলক ভ্রমণ শেষে আবারও শিপে নীল আইল্যান্ড -এবারের যাত্রা ৪৫ মিনিটের। এই দ্বীপ বিখ্যাত তার জীবন্ত প্রবালের জন্য -মাত্র দুই ঘন্টার গ্লাস বটম বোট এ স্বচ্ছ পানিতে জীবন্ত প্রবাল আর মাছের লুকোচুরি সারাজীবন মনে রাখবার মতো স্মৃতি। এই দ্বীপেই আছে কোরাল ব্রিজ যা স্থানীয়ভাবে হাওড়া ব্রিজ নামে পরিচিত। প্রায় ছয়শত দ্বীপ নিয়ে আন্দামান এন্ড নিকোবর আইল্যান্ড যার মাত্র ২৫/২৬ টি তে মানুষের (আদিবাসী সহ ) বসতি রয়েছে। আমাদের পাঁচ রাত ছয় দিনের ভ্রমণে তার মাত্র চারটি দ্বীপ দেখা সম্ভব হয়েছে। দ্বীপের প্রায় চার লাখ অদিবাসীর অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী -যাদের পূর্বপুরুষ তৎকালীন পূর্ববাংলা (বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চল) থেকে যাওয়া। বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনি সবাই তাদের বাড়িতে যাবার নিমন্ত্রণ করেছেন , পরিবারের বয়োজোষ্ঠ সদস্যদের স্মৃতিচারণে বাংলাদেশের কথা বলেছেন এবং আমাদের দেশের উন্নতি সম্মন্ধে জানতে চেয়েছেন। এখানে লোকজন অনেক অতিথি পরায়ণ , প্রচুর হোটেল হয়েছে , খাবার একদমই বাংলাদেশের মতো -তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর আমাদের রাজনৌতিক ইতিহাসের সাক্ষী আন্দামান হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য

Post Copied From:Shamim Hussain>Travelers of Bangladesh (ToB)

 

 

মিশন কাশ্মির

কাশ্মির ভ্রমনের ইচ্ছা আর সবার মত আমারো ছিল। অনেক দিন ধরে ইচ্ছাটাপুষিয়ে রেখেছিলাম। সবাই কে দেখতাম বিভিন্ন টুর প্যাকেজ এ করে কাশ্মির ভ্রমনে যায়। কিন্তু তাদের খরচের কথা শুনার পর কখনোই কাশ্মির ভ্রমনের দু:সাহস করি নাই। কিছুদিন আগে জীবনের প্রথম ইন্ডিয়ান ভিসা সিল পাওয়ার পর ভাবলাম যাই ইন্ডিয়ে ঘুরে দেখে আসি। যেহেতু সল্প বেতনের চাকরি করি। খুজতে থাকলাম ১৬-১৭ হাজার এ কোথায় ঘুরে আসা যায় ভারতের। সবাই বল্ল এই বাজেটে দার্জিলিং ছাড়া কোথায় নাকি ঘুরতে পারব না। যাই হোক নিজের দৃড় ইচ্ছা আর TOB help line এর সহায়ায়তায় কাশ্মির এর ব্যাপারে অনেক খুটিনাটি তথ্য নেওয়া শুরু করলাম। অনেক ভেবে দেখলাম কাশ্মির ২০ হাজার টাকাতেই ঘুরে আসা সম্ভব।
আর মিথ্যা বলবনা। সত্যিই আমি ১৮০০০ টাকা নিয়ে কাশ্মির এর উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছিলাম আর দেশে ফেরত এসেছি ৪০ রুপি নিয়ে। আজকে আমার এই পোস্টে আমার সেই কম খরচে কাশ্মির টুরের গল্ম শুনাব সবাইকে।
কাশ্মির টুরের প্রস্তুতি শুরু হয় আমার ঢাকা থেকেই, হাওড়া টু কাশ্মির আপ -ডাউন টিকেট কেনার মধ্য দিয়ে। ১ মাস আগে টিকেট করেছিলাম। হিমগিরি এক্সপ্রেসে হাওড়া টু জাম্মু যাওয়া আসা আমার টিকেটে খরছ হয়েছিল ৭৫০+৭৫০=১৪০০ রুপি। বাংলা টাকায় ২২০০ পড়েছিল।
২৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রথমে যশোর যাই। ট্রেন ভাড়া ৪৬০ টাকা। যশোর নামিয়ে দেয় ভোর ৪ টায়। ট্রেন থেকে যশো নেমে স্টেশনের বাইরে থেকেই বাস পেয়ে যাই বেনাপোল বর্ডারের। ভাড়া ৫০ টাকা।
২৪ তারিখ ভোর ৬ টার মধ্যে বর্ডার পৌছাই। আর কোন প্রকার দালালের সহায়তা ছাড়াই সাড়ে ৬ টার মধ্যে ভারতিয় সীমানায় প্রবেশ করি। বর্ডার ক্রস করে চা খেয়ে নিলাম। তার পর অটোরিক্সায় ৩০ রুপি ভাড়ায় লোকালে চলে এলাম বনগা স্টেষন। ১০ রুপি দিয়ে বনগা থেকে গেলাম দমদম স্টেশন। আমি চাইলে সরাসরি শিয়ালদহ স্টেশনে আসতে পারতাম। কিন্তু খুব ইচ্ছা ছিল কোল্কাতার মেট্রো রেল ভ্রমনের। যাইহোক দমদম নেমে চলে গেলাম মেট্রোরেল স্টেশনে। ১০ রুপি টিকেট কাটলাম দমদম থেকে এসপ্লেনেট। ১৫ মিনিট এ পোছে গেলাম এসপ্লেনেট। এসপ্লেনেট এ মেট্রোরেল থেকে নেমেই রাস্তা ক্রস করেই কোল্কাতা নিউ মার্কেট।
যেহেতু রাত ১২ টা তে আমার ট্রেন। আর পকেটেও টাকা কম। তার আর হোটেল নিলাম না। ইচ্ছা ছিল সারাদিন কোল্কাতা শহর ঘুরে দেখে একবারে রাতে ট্রেন ধরব সরাসরি। যাইহোক কোলকাতা পৌছে প্রথমত সব টাকা ডলার রুপিতে কনভার্ট করলাম। আর ৩৪০ রুপি দিয়ে একটা এয়ারটেল সিম কিনে নিলাম। সারাদিন কোল্কাতা ঘুরলাম। আমি যেহেতু স্ট্রিট সিংগিং করি। কোলকাতার বেশ কয়েকটি স্থানে আম রাস্তায় গান করেছিলাম। কোলকাতার মানুষ বাংলা গানের অনেক কদর করে। অনেক স্রদ্ধ্যা ভালোবাসা পেয়েছি সেখানে। ইভেন এক ছেলে আমাকে তার বাইকে করে কোলকাতা শহর ঘুরে বেরানোর প্রস্তাব দেয়। এত সুন্দর অফার সাথে সাথেই লুফে নিলাম। ছেলেটা নিজের খরচে আমাকে ইডেন গার্ডেন, ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ সহ অনেক প্লেসে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। কাশ্মির টুরের জন্যে প্রয়জনিয় জিনিস পত্র সব ঢাকা থেকেই কিনে নিয়ে গেছিলাম। তাই শপিং এ সময় না দিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে স্ট্রিট সিংগিং করে আর রাস্তার পাশের খাবার খেয়েই সময় পার হয়ে গেছিল। রাত ১১ টার মধ্যে হাওড়া স্টেশনে পৌছলাম। রাত ১২ টায় যথা সময়ে ট্রেন ছেড়ে যায়।
২৫ তারিখ ঘুম ভাংগে ট্রেনের মধ্যে। নন এসি স্লিপার এর বাংকার খারাপ না। এটলিস্ট আমার মত যারা কষ্ট করে ভ্রমন করতে পারেব তাদের খারাপ লাগবেনা। ট্রেনে খাওয়া দাওয়া সস্তা আছে। কিন্তু খাবার বেশি মজার নয়। ডিনার /লাঞ্চ এ আমার ৬০ রুপি আর নাস্তায় আমার ৩০ রুপি করে খরচ হয়েছিল।
দীর্ঘ ৪৬ ঘন্টা জার্নির পর ২৬ তারিখ রাত ১০ টায় জাম্মু তাওয়াই স্টেশনে নামি। স্টেশনে নেমে হালকা খেয়ে আবার বাস নিয়ে রোউনা দেই শ্রীনগরের উদ্দেশে। রাত ১২ টায় বাসে উঠি আর শ্রীনগরে পৌছাই সকাল ৮ টায়। পুরো রাস্তা অনেক সুন্দর ছিল কিন্তু অনেক রাত হওয়াতে তেমন কিছু দেখতে পারি নাই। পথে অনেক গুলো ট্যানেল পড়েছিল। কয়েকটা ছিল ৬-৭ কিমি লম্বা।
২৭ তারিখ শ্রীনগরের আসে পাশে ঘুরে দেখি। ডাল লেক এ শিকারা রাইড করি। শিকারা বোটের খরচ ৩০০-৪০০ রুপি ৪ জন উঠা যায়।
ঠান্ডায় শ্রীনগরর আসলে দেখার মত তেমন কিছু নাই। তবে কয়েকটা পার্ক এ গিয়েছিলাম। পার্ক গুলা মেপল লিফ এ ভরা ছিল। পার্কের বেশ কিছু ছবিও দিয়েছি। শ্রিনগরে খাবার এর মান অনেক ভালো। এখানে আসলে অবশ্যই আপনি এখানকার কাবার আইটেল গুলা ট্রাই করে দেখবেন। ১৫০ রুপি এর মধ্যে ভরপুর লাঞ্চ বা ডিনার করতে পারবেন। কেনাকাটা যা করার শ্রিনগর থেকেই সেরে নিন কারন অন্য প্লেসে এত দোকান পাবেন না।
২৮ তারিখ গেছিলাম গুল্মার্গ। গুল্মার্গ এ গেলে অনেকেই আপনাকে বলবে ঘোড়া নেওয়ার জন্যে খরচ ও কম চায়না। একেকজন একেদাম বলে কনফিউসড করবে। তার পরেও কম পক্ষে ঘোড়ায় ৫-৬শ রুপি খরচ হবে। তবে আমি মনে করি যদি আপনার ভালো জুতা আর শারিরিক শক্তি থাকে আপনি সহজেই হেটে গুল্মার্গ এর সব গুলা টুরিস্ট প্লেস গুলা ঘুরে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সকাল সকাল আপনাকে গুল্মার্গ এ পৌছাতে হবে। গুলমার্গ এ গেলে অবশ্যই কেবল কারে চড়বেন। কেবল কারে করে ৮০০০ ফিট উঠ তে খরচ হবে ৭০০ রুপি ১৪০০০ ফিট উপরে উপরর গেলে ১৬০০ রুপি। উপরে উঠে ধুমপান/ মধ্যপান / দৌড়া দৌড়ি না করাই ভালো। এতে আপনার অসুস্থ হওয়ার অনেক সম্ভবনা থাকবে।
গুলমার্গ এ রাতে থাকতে চাইলে আপনার রুপ প্রতি ১২০০ রুপি থেকে ৫০০০ রুপি খরচ হবে। খাওয়া দাওয়া ১৫০ রুপিতে লাঞ্চ/ ডিনার। ১০০ রুপিতে ব্রেকফাস্ট।
২৯ আর ৩০ দুই দিন থেকেছিলাম প্যাহেল্গাম এ। পেহেল্গাম এডভেঞ্চার প্রিয় আর ট্রেকারদের জন্যে স্বর্গস্থান। এখানে আপনি ট্রেক করার জন্যে টুলিয়ান লেক, তারসার-মারসার, শিষনাগ সহ আরো অনেক প্লেস পাবেন। তবে রিলাক্সলি ঘুরে দেখতে চাইলে আরু ভেলি, বেতাব ভেলি, বাইসারান ইত্যাদি প্লেস গুলা ঘুরে দেখতে পারেন। আরু ভ্যালি এর পার্ট টায় যেতে গাড়ি লাগবে। বাইসারান এর দিকে গেলে ঘোড়া বা হেটেও যেতে পারবেন। পেহেল্গামে শপিং করার তেমন দোকান পেলাম না। তবে স্ট্রিট ফুড পাবেন অনেক। পেহেলগামে থাকতে খরচ হবে ৬০০- ৫০০০ রুপির মত।
ফিরে আসার দিন আমি সরাসরি পেহেলগাম থেকে জাম্মু চলে আসি। কিন্তু আসার দিন আমার পুর্ব নির্ধারিত ট্রেন কেন্সেল হয়ে যাওয়ায় আমার দুর্বিষহ যাতনায় পড়তে হয়েছিল। পকেটেকে টাকাও প্রায় ফুরিয়ে এসেছিল।আমার মনে পড়ে আমি যখন ফেরার টাইমে উত্তর প্রদেশে ছিলাম আমার শেষ সম্বল ছিল মাত্র ১৩০ রুপি। যাই হোক সৃষ্টি কর্তার অসিম কৃপায় আর ট্রেনে সহযাত্রিদের সহায়তায় আমি নিরাপদে বেনাপোল বর্ডার ক্রস করি। অইখানে এসে মাকে বলি বিকাশ করতে। ওই বিকাশের টাকা দিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরে আসি।
কিছু বিষয় আপনাদের বলে রাখি।
১. কাশ্মিরে একমাত্র কেবল কার ছাড়া কোন প্রাইস ই সরকার নির্ধারিত নয়। সো একদম গুলিস্তান স্টাইলে দরদার করবেন।
২. সবপ্লেসেই যাওয়ার জন্যে শেয়ার বাস গাড়ি পাবেন। তাই যারা একা টুর দিতে চাচ্ছেন নির্ভয়ে চলে যান। রিজার্ভ গাড়ি ভাড়া দিন প্রতি ২০০০-৩৫০০ পর্যন্ত আছে।
৩. স্থানিয় ব্যাবসায়ি, দোকানদার, এদের সাথে অবশ্যই হিন্দি আর উর্দু তে কথা বলবেন।
আর বি এস এফ পুলিশ ধরলে ধুমায়ে ইংলিশ বলবেন 😉 খিক খিক খিক
৪. ডাল লেকে শপিং না করে শ্রিনগরে কেনাকাটা করবেন।
৫. কোন প্লেস এ ছবি তোলার আগে বা ওপেনলি স্মোক করার আগে জেনে নিবেন
আমি যখন কাশ্মির গিয়েছিলাম প্রায় প্রতিদিন এ মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। কখনো কখনো মাইনাস ৬-৭ ও পেয়েছি। এই শীত থেকে বাচতে আমি যা যা পড়েছিলাম
১. এক্সট্রা ইনার সহ স্নো বুট।
২. সিন্থেটিক ইনার
৩. লাক্স বডি ওয়ার্মার ( থার্মাল)
৪.উলের ফুলহাতা টিশার্ট
৫. মোটা উলের সোয়েটার
৬. রেইন কোট
নিচে
৭. সিন্থেটিক ইনার প্যান্ট
৮. ফ্লিস এর পায়জামা
৯. গ্যাবার্ডিং প্যান্ট
আমার এই টুরে গিয়ে আমার ভারতীয় দের ব্যাপারে ধারনা একদম পালটে গেছে। 🙂
ভারতীয় লোকজন অনেক ভালো। অনেক হেল্পফুল আর মিশুক। আমি আমার পুরা জার্নিতে এত এত বন্ধু আর এত ভালোবাসা পেয়েছি। আমার সারাজীবন মনে থাকবে। স্পেশালি ওদের বি এস এফ সদস্যরা অনেক আন্তরিক। ওদের ভয় পাবেন না।
অনেক সংক্ষেপে পুরা টুরের হিসাব নিকাশ দেওয়া টা কঠিন ছিল। তার পরেও কারো বিস্তারিত যেকোন তথ্যের জন্যে আমাকে নক করতে পারেন। আমার সাধ্য মত হেল্প করব 🙂

Post Copied From:Pearl Matthew>Travelers of Bangladesh (ToB)

মানালি

আমি আগেই বলেছিলাম আমাদের ট্যুর প্লান ছিল (ঢাকা-কোলকাতা – কালকা- শিমলা- মানালি- দিল্লী- আগ্রা- কোলকাতা-ঢাকা)। আমাদের এই ট্যুর এর মেম্বার ছিলাম দুই জন। আমি (রিয়াদ আরেফিন ) এবং আমার বন্ধু আবদুল্লাহ আল মাসুম ( বাবু)। আমার এই ট্যুর প্লান টা বলার আগে কিছু কথা আছে… যা কিনা সবার কাছেই পরবর্তীতে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি চিন্তা করলাম এই প্রশ্নের উত্তর গুলো আগে আপনাদের দিবো।
১। মানালি যাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন?
২। মানালি যাওয়ার উপযুক্ত রুট কোনটা ?
৩। ইন্ডিয়ার বিভিন্ন স্থান এর খরচ কত হবে?
৪। টয় ট্রেন এর টুকিটাকি।
৫। ইন্ডিয়ান রেল এর টুকিটাকি।
৬। ইন্ডিয়া র বিভিন্ন স্থান এর পরিবহন সমাচার।
৭। ইন্ডিয়ান বিভিন্ন স্থান এর হোটেল সমাচার।
৮। ইন্ডিয়া র বিভিন্ন স্থান এ খাবার সমাচার।
৯। রথাঙ্গ পাস সম্পর্কে কিছু কথা।
১০। দিল্লি ও আগ্রা নিয়ে কিছু কথা।
এবার উত্তরে আসা যাক। আসলে ইন্ডিয়া সম্পর্কে আমি যে সব জানি তা কিন্তু না। ইন্ডিয়া তে যাওয়ার পর যতটুকু ঘুরিছি তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই এই সব প্রস্নের উত্তর গুল দিব।

১। মানালি যাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন?
উত্তর ঃ আসলে মানালি সব সময় সুন্দর। এই মানালিকে বলা হয় দেবভুমি। মানালির সুন্দরয অসাধারন। সেই প্রসঙ্গে বলতে গেলে মানালি যাওয়ার উপযুক্ত সময় বলে কিছুই নেই, সবসময় সুন্দর সব সময় যাওয়া যায়। কিন্তু সিজান ভেদে মানালির প্রকৃতির পরিবর্তন হয়। আপনি কোন প্রকৃতিতে মানালি কে দেখবেন সেই টাই হবে মানালি কে দেখার উপযুক্ত সময়।
১। জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি- মার্চ ঃ এই সময় টাতে আপনি মানালি তে শুধু বরফ পাবেন। যেই দিকেই তাকাবেন শুধু বরফ। যারা বরফ দেখতে ভালোবাসেন, বরফ নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন তাদেরকে বলবো এই মাস গুলতে ট্যুর প্লান করুন। আপনাদের জন্য এই টাই উপযুক্ত সময়।
২। এপ্রিল-মে-জুন ঃ এই সময় টাকে মানালির বসন্ত বলা হয়। প্রকৃতি সবুজ রুপ ধারন করে। দূরে পাহাড়ে বরফ দেখা যায়। সলাং ভ্যালি, রথাঙ্গ পাস বরফ পাবেন। মানালি শহর টা ঘুরতে পারবেন। পায়ে হেটে হিল ট্র্যাকিং করতে পারবেন। প্রকৃতির সুন্দরয দেখার জন্য সব থেকে উপযুক্ত সময়। এই সময় টাতে আপেল গাছে অ্যাপেল একদম ছোট থাকে।
৩। জুলাই- অগাস্ট – সেপ্টেম্বর ঃ এই সময় টায় মানালি তার পুরো যৌবন ফিরে পায়। চারদিকে শুধু পাইন বনের সবুজ সমারহ। বিপাসা হ্রদ তার পূর্ণ রুপ ফিরে পায়। অ্যাপেল , চেরি ফল গুল বড় হবে। পাহাড়ের গায়ে সবুজ প্রকৃতি দেখতে এই সময় টাই উপযুক্ত। আর এই সময় গেলে বরফের দেখা পাবেন না।
৪। অক্টোবর – নভেম্বর – ডিসেম্বর ঃ এই সময় টাতে শীত ের আগমন ঘটবে। নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে গেলে, কপাল ভাল থাকলে স্নও ফাল ও পেয়ে যেতে পারেন। এই সময় টাও মানালি ঘুরার জন্য উপযুক্ত একটা সময়।
এখন এই ৪ টা সিজান উপর ভিত্তি করে যার যেই সময় টা ভালো লাগে সে সেই সময় টাকে উপযুক্ত করে ঘুরে আস্তে পারেন মানালি।

২। মানালি যাওয়ার উপযুক্ত রুট কোনটা ?
উত্তরঃ মানালি যাওয়ার জন্য অনেক গুল রুট আছে। আমি একে একে বলছি যার যেই রুট পছন্দ হয় সে সেই রুট এই প্লান করে ফেলুন।
# কলকাতা থেকে বাই ট্রেন কালকা, কালকা থেকে বাই ট্রয় ট্রেন/ ট্যাক্সি তে সিমলা, সিমলা থেকে বাই বাস/ ট্যাক্সি মানালি, মানালি থেকে বাই বাস দিল্লি, দিল্লি থেকে আগ্রা, আগ্রা থেকে বাই ট্রেন কলকাতা। ( যারা হিল রাইড বেশি পছন্দ করেন, যাদের হিল সিকন্যাস কম তাদের জন্য এই রুট টা উপযুক্ত)
# কলকাতা থেকে বাই ট্রেন আগ্রা, আগ্রা থেকে বাই বাস দিল্লি, দিল্লি থেকে বাই বাস মানালি, মানালি থেকে বাই বাস সিমলা। সিমলা থেকে বাই ট্রয় ট্রেন/ট্যাক্সি তে কালকা , কালকা থেকে বাই ট্রেন এ কলকাতা। ( এই প্লান এও যেতে পারেন )
# কলকাতা থেকে বাই ট্রেন দিল্লি, দিল্লি থেকে বাই বাস মানালি, মানালি থেকে বাই বাস দিল্লি, দিল্লি ,আগ্রা ঘুরে বাই ট্রেন কলকাতা। ( এই প্লান টা যাদের হিল সিকন্যাস আছে, অথবা ট্যুর আ সাথে বেবি আছে, অথবা ট্যুর মেয়েদের সংখ্যা বেশি তারা প্লান টা বেছে নিতে পারেন)।
# কলকাতা থেকে বাই এয়ার দিল্লি / কুল্লু (কুল্লু থেকে মানালি মাত্র ৫০ কিলো ) দিল্লি / কুল্লু থেকে বাই বাস মানালি। মানালি থেকে বাই বাস দিল্লি।দিল্লি ,আগ্রা ঘুরে বাই এয়ার এ কলকাতা। ( যারা এয়ার এ ঘুরবেন তাদের জন্য এই প্ল্যান টা উপযুক্ত)
উপরের প্ল্যান গুলোর ভিতর যেই রুট প্ল্যান টা আপনাদের ভালো লাগবে সেই রুটেই আপনাদের ট্যুর প্ল্যান সাজিয়ে ফেলুন।

৩। ইন্ডিয়ার বিভিন্ন স্থান এর খরচ কত হবে?
উত্তরঃ আসলে আমরা খরচ বলতে থাকা, খাওয়া, ঘুরাঘুরি কেই বুঝাই। শুধু মাত্র কলকাতা বাদে ইন্ডিয়া র সব শহরে খরচ তুলনা মুলক কম হবে। ট্যুর এর প্ল্যান এর উপর নির্ভর করে আসলে খরচ কত হবে। শুধু মাত্র হোটেল এবং পরিবহন ছাড়া অন্ন সব কিছুর খরচ প্ল্যান করে কারা যায়। যত দিন এর ট্যুর হবে তত দিনের খাবারের একটা এভারেজ হিসাব বের করা যায়। কত দিন ঘুরবো কথায় কথায় যাবো তার সঠিক প্ল্যান করা থাকলে পরিবহন হিসাব টাও সহজেই বের করা যায়। শুধু মাত্র (মানালি, সিমলা) হোটেল টা সিজান ভেদে ভাড়ার পরিবর্তন হয়। সেই টা হলেও খুব একটা পরিবর্তন হয় না। আর (মানালি,শিমলা) শহরে আশেপাশে ঘুরার যেই পরিবহন খরচ আছে, অর্থাৎ ট্যাক্সি/ জীপ ভাড়া সিজন ভেদে কমবেশি হয়। তাই বলবো সঠিক প্ল্যান ঠিক করুন এবার খরচ টা প্ল্যান অনুযায়ী বসিয়ে নিন দেখবেন ইন্ডিয়া ট্যুর এর মোট খরচ রেডি হয়ে গেছে।
৪। টয় ট্রেন এর টুকিটাকি।
উত্তরঃ যারা কিনা কলকাতা থেকে কালকা হয়ে সিমলা হয়ে মানালি যাবেন তাদের জন্য এই লেখাটুকু। কলকাতা থেকে কালকা যাওয়ার একমাত্র সরাসরি ট্রেন হল কালকা মেইল। যদিও বলা হয় কালকা মেইল সুপার ফাস্ট, কিন্তু কালকা পৌছাতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লেট হয়। কালকা স্টেশন থেকে সিমলার উদ্দেশে সকাল ৬ টা থেকে ট্রয় ট্রেন ছেরে যায়। প্রতি ৩০ মিনিট / ১ ঘণ্টা পরপর ট্রেন ছারে। লাস্ট ট্রেন ১ টায় ছেরে যায়। এখনে অনেকেই বলে থাকে রিজার্ভেশন করা থাকলে ট্রয় ট্রেন এর সিট পাওয়া যায়। কিন্তু আমি বলবো তাদের সব ট্রেন রিজার্ভেশন সিস্টেম থাকে না। প্রতি ১ ঘণ্টা পর পর যেই ট্রেন গুল ছারে সেইগুল তে কোন রিজার্ভেশন থাকে না। যার যেই খানে ইচ্ছা বসতে পারে। র টিকেট এর দাম মাত্র ৫০ রুপি। পাহাড়ের বুক চিরে ১০২ টা টানেল ভেদ করে মেঘের সাথে খেলা করে অসাধারন এক ভ্রমন শেষে করে সিমলা পৌছতে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টার মত। তাই আমি বলবো রিজার্ভেশন এর ঝামেলায় যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই অনায়েসে ট্রয় ট্রেন পেয়ে যাবেন।
৫। ইন্ডিয়ান রেল এর টুকিটাকি।
উত্তরঃ ইন্ডিয়ান রেল এর টিকেট পাওয়াটা আকাশের চাঁদ পাওয়ার মত। যারা ফাস্ট টাইম ইন্ডিয়া র কলকাতার বাহিরে যাবেন তাদের জন্য অনেক কঠিন কাজ। অনেকেই চেষ্টা করে দেশে থেকেই টিকেট কনফার্ম করার জন্য বাই এজেন্সি ততকাল কোঠায়, নেট ফেয়ার থেকে বেশি টাকা দিয়ে। যদি কোন পরিচিত এজেন্সি থাকে তবে টিকেট করে নিতে পারেন। অন্যথায় আমি বলবো কলকাতায় হাওরায় ফেয়ারলি প্লেস থেকে ফরেন কোঠায় টিকেট কাটুন। ( হাওড়া গামি যে কোন বাস হেল্পার কে বললেই ফেয়ারলি প্লেস চিনিয়ে দেবে)। সকাল ৮ টার ভিতর ফেয়ারলি প্লেস এ থাকতে পারলে, ভাগ্য ভালো থাকলে অই দিন এর ও টিকেট পেয়ে যেতে পারেন। না হয় ত সর্বচচ ২ দিন কলকাতা থাকতে হতে পারে। আর দিল্লি থেকে অনায়েসে টিকেট পাওয়া যায়। নয়া দিল্লি স্টেশন এর ২য় তালায় ইন্টারন্যাশনাল কোঠায় টিকেট কাটা যায়। সেখনে যে কোন দিন এর টিকেট পেয়ে যেতে পারবেন। তারা অনেক হেল্প ফুল্ল।

৬। ইন্ডিয়া র বিভিন্ন স্থান এর পরিবহন সমাচার।
উত্তরঃ পরিবহন খরচ ট্যুর খরচ এর সব থেকে বড় একটি অংশ। কলকাতা থেকেই শুরু করি, কলকাতা শহর ও আশেপাশে ঘুরার জন্য বাস টাই বেস্ট। মাঝে মাঝে শেয়ার আ সিনজি ব্যাবহার করতে পারেন। মেট্রো রেল ও ব্যাবহার করতে পারেন। এবার আসুন সিমলা, মানালি র পরিবহন খরচ, সিমলা র আশেপাশে ঘুরার জন্য অনায়েসে ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন সে সব স্পোর্ট ২০০০ থেকে ২৫০০ রুপির ভিতরে ঘুরে দেখাবে। আই টা সিজন ভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। সিমলা থেকে মানালি বাই বাস HRTC (A/C) ৬৫০ রুপি। মানালির আশেপাশে ঘুরার জন্য ট্যাক্সি/জীপ/মাহেন্দ্রা পাবেন। আমি বলবো মানালি শহর এবং আর আশেপাশে পায়েহেটে ঘুরুন অনেক মজার। মানালির শহরের আশেপাশের স্পোর্ট দেখতে ১০০০ থেকে ১৫০০ রুপির ভিতর ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন। সলাং ভ্যালি তে যেতে ২০০০ থেকে ২৫০০ পরবে সিজন ভেদে কম বেশি হয়ে থাকে। রথাঙ্গ পাস ২০০০থেকে ৮০০০০ পর্যন্ত হতে পারে সিজানভেদে। (ট্যাক্সি/জিপ)
মানালি থেকে দিল্লি বাই বাস ( A/C VOLVO) ১২০০ থেকে ১৩০০ রুপি পরবে। আর দিল্লি শহর ঘুরলে সিটি ট্যুর প্যাকেজ এ ঘুরতে পারেন। নিজেরাও বাস, সিনজি, ট্যাক্সি, মেট্রো তে করে দিল্লি ঘুরতে পারেন। আর আগ্রা হল সবথেকে খারাপ জায়গা ইন্ডিয়া তে, আগ্রা তে অনেক দালাল দের উপদ্রপ। আগ্রা তে রাতে না থাকাই ভালো ।
৭। ইন্ডিয়ান বিভিন্ন স্থান এর হোটেল সমাচার।
উত্তরঃ ইন্ডিয়া র কলকাতা বাদে সব ট্যুরইস্ট প্লেস এর হোটেল ভাড়া তুলনা মুলক কম। দালাল দের একটা ঝামেলা সব যায়গাতেই থাকবে। শতভাগ চেষ্টা করবেন এরিয়ে চলার জন্য। এতে কিছু টাকা হলেও বাচবে। আপনি আপনার ট্যুর এর প্ল্যান অনুযায়ী হোটেল নির্বাচন করুন। মানালি তে থাকার জন্য সব থেকে সুন্দর যায়গা হল ওল্ড মানালি। ওখানে ১০০০ থেকে ১৫০০ রুপির ভিতর অনেক বড় এবং সুন্দর রুম পাবেন। আর নিউ মানালি ( মল রোড) প্রচণ্ড গিঞ্জি মানুষ বেশি ভারাও বেশি। আর এলোয় ( নিউ মানালি) মল রোড থেকে একটু দূরেই অই খানের হোটেল গুলোর ভাড়া তুলনা মুলক কম। এবার আসুন দিল্লি তে দিল্লি তে থাকার মত অনেক যায়গা আছে। তবে আপনি যদি নিউ দিল্লি স্টেশন এর পাসে পাহাড় গঞ্জ এ থাকতে পারেন। মাইন রোড থেকে একটু ভিতরেই ১০০০ রুপিতে এ/সি রুম পাবেন। এ ছারাও আপনি জামা মসজিদ এর আশেপাশে , রাজীব চওক এর আসে পাসে থাকতে পারেন। ১০০০ থেকে ১৫০০ ভিতর পেয়ে যাবেন। এবার আসুন আগ্রা, আমরা যদিও আগ্রায় রাতে ছিলাম না। আর আগ্রা খুব একটা নিরাপদ যায়গা না। এখানে দালালদের উপদ্রপ খুব বেশি। আপনি চাইলে তাজমহলের আশেপাশে কম খরচে থাকতে পারবেন। এবার আসুন কলকাতায়, নিউ মার্কেট অনেক বেস্ত একটা যায়গা। বাংলাদেশী রা নিউ মার্কেট এর মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্ক কুইক স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট এর আসেপাসেই থাকেন বাংলাদেশী দের চাপ বেশী থাকলে হোটেল ভাড়া বেড়ে যায় শেয়ার বাজারের মত। এ/সি রুম আর জন্য আপনাকে ২০০০ থেকে ৩০০০ রুপি বাজেট রাখতেই হবে।
৮। ইন্ডিয়া র বিভিন্ন স্থান এ খাবার সমাচার।
উত্তরঃ আমাদের বাঙ্গালী মুসলিমদের জন্য ইন্ডিয়া তে ভালো খাবার পাওয়া টা একটু কষ্ট কর। কলকাতায় আপনি ভালো মানে খাবার পাবেন। খাবার খেয়ে ভালো লাগবে। কিছু হোটেল আর নাম দিয়ে দিলাম হোটেল রাঁধুনি, হোটেল প্রিন্স এই হোটেল গুলোর খাবার অনেক ভালো। যখনি আপনি কলকাতা ছারবেন তখন থেকেই ভালো রুচি সম্মত খাবারের কষ্ট শুরু হয়ে যাবে। ট্রেন এ খাবারের অনেক কষ্ট আণ্ডা বিরানি আর ভেজ বিরানি ছাড়া ট্রেন এ খাবার কিছুই পাওয়া যায় না। ট্রেন এর ওই বিরানির টেস্ট খুব একটা ভালো নয়। আমি বলবো অবশ্যই ট্রেন এ পর্যাপ্ত খাবার নিয়ে উঠার জন্য। সিমলায় থাকলে সিমলা মল রোড এর আশেপাশে বাঙ্গালী খবার হোটেল আছে। এবার আসুন মানালিতে, মল রোড এর আসে পাসে অনেক হোটেল আছে ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়। তবে মানালিতে মুসলিম হোটেল আছে একটাই,হোটেল এর নাম “করিম খানা খাজানা” হোটেল এর মালিক হাফেজ তারিক, খুব ভালো একজন মানুষ, সে বাংলা বুঝে এবং বাংলা বলতেও পারে। উনার বাসা কাশ্মীর। বাংলাদেশ থেকে যারা মানালি তে যায় তাদের কে সে অনেক হেল্প করে। তার নাম্বার আমি দিয়ে দিতেছি (৯৮১৬৬৯৩৭২২, ৯৮০৫১৫৫৪৮৯)।
দিল্লি তে প্রচুর মুসলিম হোটেল পাবেন, কিন্তু খাবারের মান খুব বেশি ভালো হবে না। আগ্রাতেও একি রকম। প্রচুর খাবারের হোটেল আছে। ইন্ডিয়ান রা একটা জিনিস খুব বেশি খায় তা হল চাটনি। যা আমরা একবার খেলে মুখ এক মিনিট বন্ধ হয়ে থাকে। আর কেক, মিষ্টি, ফাস্ট ফুড, চিপ্স, জুস ইত্যাদি আরও অনেক কিছু পাবেন কম টাকায়। ইন্ডিয়া র যেখানেই যাবেন ভারি খাবার খেলে আপনার ২০০ থেকে ২৫০ রুপি পরবে। ( বিরিয়ানি, সাদা ভাত)।
৯। রথাঙ্গ পাস সম্পর্কে কিছু কথা।
উত্তরঃ মানালি থেকে রথাঙ্গ পাস এর দূরত্ব ৫২ কি মি, মানালির সব থেকে সুন্দর যায়গা হল এই রথাঙ্গ পাস। সৃষ্টি কর্তা কতটা সুন্দর্য দিয়েছে এই রথাঙ্গ পাস কে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। যারা মানালি যায় তাদের অনেকই রথাঙ্গ পাস যেতে পারে না। এই টা আসলে ভাগ্যের বেপার। সবার ভাগ্যে রথাঙ্গ পাস থাকে না। তবে পারফেক্ট টাইম এ গেলে রথাঙ্গ পাস এর আসল সুন্দরয দেখা যায়। এপ্রিল , মে, জুন(প্রথমে) আপনি রথাঙ্গ পাস এর রোড পারমিশন পাবেন। সেই সময় আপনি রথাঙ্গ পাস এ পাবেন প্রচুর বরফ, আমি আমার প্রথম লেখাতেই সেই ভিডিও টা দিয়েছিলাম। যদিও পরিবহন খরচ টা একটু বেশি হবে। আপনি যেই দিন মানালি তে যাবেন সেই দিন থেকেই রথাঙ্গ পাস যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকবেন। এজেন্সি র মাধ্যমে গেলে টাকাটা একটু বেশি লাগবে কিন্তু রথাঙ্গ পাস যেতে পারবেন সেই টা ১০০% নিশ্চিত। আমাদের খরচ হয়েছিল জন প্রতি ২০০০ রুপি। ড্রেস ২৫০ রুপি । আমরা দুইজন গিয়েছিলাম শেয়ারে। আমাদের জীপে আরও ৬ জন ছিল। রথাঙ্গ পাস এ প্রতিদিন ১০০০ গাড়ীর পারমিশন দেয় তার ভিতর ৬০০ পেট্রোল র ৪০০ ডিজেল। আপনি মানালির বিভিন্ন ট্যাক্সি ড্রাইভার দের ও হেল্প নিতে পারেন। আর কারও যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে তবে সে ইচ্ছা করলে মোটর সাইকেল এর পারমিশন নিয়ে রথাঙ্গ পাস যেতে পারে।
১০। দিল্লি ও আগ্রা নিয়ে কিছু কথা।
উত্তরঃ- দিল্লি দুই দিন ই যথেষ্ট, বড়জোর ৩ দিন থাকতে পারেন সব ঘুরতে পারবেন। নিউ দিল্লি স্টেশন এর পাশেই পাহাড়গঞ্জ এলাকায় থাকতে পারেন হোটেল ভারাও কম সুবিধাও বেশি। আমি সবাইকে যা বলবো তা হল, প্রতি টা হোটেল এই ট্যুরিস্ট কোচ আছে এ/সি সার্ভিস, এক এক জনের কাছে এক এক টা প্রাইজ রাখে। ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি র ভিতর পেলে ওদের ট্রিপ টা নিতে পারেন, সব স্পোর্ট ঘুরলেন, ওদের প্রবলেম একটাই টাইম লিমিট কম। আপনার যেই স্পোর্ট বেশি ভালো লাগবে সেই স্পোর্ট গুল পরের দিন আবার গেলেন বাস এ ( বাস,মেট্রো) পাবলিক সার্ভিস খরচ খুব ই কম। তবে আমরা দিল্লি পাবলিক সার্ভিস এই ঘুরছি। আর আগ্রা থাকার দরকার নাই, একদিন ই আগ্রার জন্য যথেষ্ট। আগ্রা খুব খারাপ যায়গা তাই বলবো সাবধানে থাকবেন। ওদের দালাল গুল খুবই খারাপ। অবশ্যই দালাল এরিয়ে চলবেন দরকার হলে পুলিশ এর সাহায্য নিবেন।

আজ এই পর্যন্তই, আমার ৩য় লিখাতে আমাদের মুল ট্যুর এবং কিছু মজার সৃতি আপনাদের কে বলবো।

Post Copied from:Riad Arefin‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

কোলকাতা, শিমলা, মানালি আর আগ্রা!

১৫ হাজার টাকায় ঘুরে আসলাম কোলকাতা, শিমলা, মানালি আর আগ্রা! কোলকাতায় ২দিন, শিমলায় ১দিন, মানালিতে ২দিন আর আগ্রায় ১দিন আর ৪দিন আসা-যাওয়া মিলিয়ে ১০দিনের ট্যুর ছিল আমাদের।

আমরা গিয়েছিলাম ৪জন। ২২ সেপ্টেম্বর রওনা দিই খুলনা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে আসতে চাইলে খুলনার বাস/ট্রেনে আসা যাবে। বাস ভাড়া ৫৫০টাকা, ট্রেন ৫০৫টাকা।

Day Zero:
খুলনা-বেনাপোল ট্রেন (সকাল ৬টায় খুলনা রেলস্টেশন থেকে) = ৪৫টাকা
বেনাপোল-বর্ডার অটো= ২৫ টাকা (রিজার্ভ ১০০টাকা)

বর্ডারে কারো হাতে পাসপোর্ট না দিয়ে নিজে নিজে ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করুন। আগে থেকে বিভাগীয় সোনালি ব্যাংক শাখায় ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা জমা দিয়ে যেতে পারেন,ইমিগ্রেশনে সময় বাঁচবে। ডলার নিতে পারেন অথবা হাতে ৫০০০ টাকা রাখতে পারেন, বাকিটা ভেতরে। এইটা বৈধ না, তবে বাংলা টাকা ইন্ডিয়ায় ভাঙ্গালে রেট ভালো পাওয়া যায়। বর্ডার পার করে টাকা ভাঙ্গিয়ে আমরা সোজা বনগাঁ স্টেশন চলে যাই। এখান থেকে সকল হিসাব রুপিতে। “১ রুপি=১.২৮ টাকা” “সকল রুম ভাড়া মাথাপিছু প্রতিদিনের”

বর্ডার-বনগাঁ = ৩০ রুপি
বনগাঁ – শিয়ালদাহ = ২০ রুপি
শিমলা যেতে হলে আগে কালকা যেতে হবে ট্রেনে। আগে থেকে টিকেট বুক দিলে তো ঝামেলা কমে গেল। আর না দিলে সোজা শিয়ালদাহ থেকে ফেয়ারলি প্লেস চলে যান। ফরেনারদের জন্য শুধুমাত্র টিকেট বিক্রি হয় ফেয়ারলির ইস্টার্ন রেলওয়ে হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং এ। তাই পাসপোর্ট+ভিসার জেরক্স সাথে নেয়া বাধ্যতামূলক।

শিয়ালদাহ-ফেয়ারলি প্লেস= ১৫০ রুপি ট্যাক্সিতে (পারহেড ৪০ রুপি)

ফেয়ারলি থেকে টোকেন সংগ্রহ+পূরণ করে যেসব টিকেট কিনবেনঃ
১) হাওড়া টু কালকা (কালকা মেইল, ১২৩১১) = ৯৯৫ রুপি স্লিপার ক্লাস (GST সহ)
২) দিল্লি টু হাওড়া (কালকা মেইল, ১২৩১২) = ৮৮৫ রুপি স্লিপার।

টিকেট কাটা হয়ে গেলে মারকুইস স্ট্রিটে চলে যান। পূঁজার সময় গিয়েছিলাম তাই আগে থেকে হোটেল বুক দিয়ে যাওয়া বেটার মনে হয়েছে। হোটেল বুক করেছিলাম  এর মাধ্যমে। জোড়া গির্জার পাশের গলিতে ” Shaw Guest House” এ ছিলাম।

রুমভাড়া= পারহেড ৪২০রুপি

কোলকাতায় ঘোরার জায়গাঃ
১) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ২) ইডেন ৩) একুইটিকা ৪) নিউমার্কেট ৫) হাওড়া ব্রীজ ৬) বিদ্যাসাগর সেতু ৭)সাইন্স সিটি

কোলকাতায় ১দিন থাকা শ্রেয়। শহর ঘুরতে হলে আশপাশে আপনার গন্তব্যে কত নাম্বার বাস যায় জিজ্ঞেস করে উঠে পড়ুন বাসে। বাস ভাড়া ৬ থেকে ১০ রুপির মধ্যে। অথবা ক্যাব ভাড়া করতে পারেন সারাদিনের জন্য। পারহেড ম্যাক্সিমাম ২৫০-৩০০ রুপি পড়বে।

খাবারঃ
১)সকালের নাস্তা- ৪টা রুটি, ডিম, ডাল তড়কা= ১৮ রুপি
২) দুপুরে চিকেন/ভেজ থালি= ৫০-৭০ রুপি
৩) রাতের খাবার দুপুরের মতো খেয়ে ফেলবেন= ১০০ রুপির মধ্যে

Day One:
কোলকাতায় ঘুরে কাটিয়েছি।

Day Two:
সন্ধ্যা ৭:৪০ এ কালকা মেইলে করে কালকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। ৩৩ঘন্টা থাকতে হবে ট্রেনে। তাই যত হালকা পোশাক পড়তে পারেন ততই ভালো। ট্রেনে উঠার আগে শুকনো খাবার কিনে নিতে হবে সকালের নাস্তার জন্য।

Day Three:
ট্রেনেই থাকতে হবে এই দিনটা।
ট্রেনে দুপুর/রাতে খাবার খরচঃ
১) ভেজ থালি- ১১০ রুপি
২) ডিম থালি- ১৩০ রুপি
৩) চিকেন থালি- ১৪০ রুপি

প্রতি থালিতে ১জনের ভাত, ১জনের রুটি থাকবে। স্টাফ কে বললে রুটি চেঞ্জ করে এক্সট্রা ভাত দিবে যা দুইজন আরামসে খেতে পারবে।

Day Four:
ট্রেন লেট না করলে কালকা পৌছে যাবেন ভোর ৪:৩০ এ। আগে থেকে শিবালিক ডিলাক্স টয় ট্রেনের টিকেট (৪২০ রুপি) কেটে রাখলে বসে পড়ুন টয় ট্রেনে অথবা স্টেশন থেকে জেনারেল কোটায় টিকেট (৫০রুপি) কাটতে পারেন। জেনারেল কোটায় সিট পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। ট্রেনে আগে উঠলে আগে সিট পাবেন ভিত্তিতে সিট ফিলাপ হয়।

যারা প্রথম যাবেন শিমলা তারা অবশ্যই টয় ট্রেন ট্রাই করবেন। কালকা থেকে শিমলা বাসে/ক্যাবেও যাওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা মিস করে যাবেন।

শিমলায় আমরা মল রোডের ঠিক নিচেই হোটেল বুক করেছিলাম, শিমলা ওল্ড বাস-স্টপের দিকে, “Hotel Basant”
হোটেল ভাড়া= ২৭৫রুপি পারহেড

শিমলায় যদি বিকেলে পৌছান তবে শাওয়ার নিয়ে সন্ধ্যায় বেরিয়ে পড়ুন রাতের শিমলা দেখতে। বেশ ভালো ঠান্ডায় রাতের শিমলা অদ্ভুত রকমের সুন্দর।
কালি বাড়ি থেকে চার্চ পর্যন্ত হেটে বেড়ান, শেষে মল রোডে এসে বাকি সময় কাটান। আমরা এগুলা ঘুরে একটা এজেন্সীর মাধ্যমে ক্যাব বুক করলাম। নরমালি এজেন্সীর পক্ষপাতি না হলেও কস্ট কম পড়ায় এইটা নিয়ে নিই। প্যাকেজে যা যা ছিলঃ
১) শিমলা লোকাল স্পট ট্রিপ (জাখু মন্দির, গ্রীন ভ্যালি, কুফরী)
২) শিমলা থেকে মানালি বাই টাটা অল্টো ফোর সিটার
৩) মানালি লোকাল স্পট ট্রিপ (হাদিম্বা টেম্পল, মানু টেম্পল, ক্লাব হাউস, ভাসিস্থ রাম মন্দির)
৪) মানালি টু রোথাং পাস বাই টাটা অলটো
৫) রোথাং পাসের পারমিশন চার্জ

সব কিছু মিলায়ে পারহেড পড়েছিল ২১৫০ রুপি। বারগেইন করলে আরো কমে পাওয়া যেত। এজেন্সি নিলে সব কিছু আগে থেকে ঠিকঠাক করে যাবেন, কোথায় কোথায় যাবেন, কতক্ষণ থাকবেন ইত্যাদি।
ম্যানুয়ালি এই ট্রিপটা দেয়া যায় এইভাবেঃ
১) শিমলা ট্রিপ= ১২০০ রুপি ক্যাব (৪জনের)
২) শিমলা টু মানালি বাস (New bus stop shimla থেকে কিনতে হবে) = ৭০০ রুপি
৩) মানালি লোকাল স্পট= ১০০০-১২০০ রুপি পার ক্যাব
৪) মানালি টু রোথাং= অফসিজনে ২০০০রুপি আর অনসিজনে ৬০০০ রুপি পর্যন্ত হয়।
৫) রোথাং এর পারমিশন চার্জ= ৬০০রুপি

ম্যানুয়ালি/ এজেন্সি যেভাবেই যান মানালি পৌছেই রোথাং এর পারমিশন টা করিয়ে নিতে বলবেন ড্রাইভার কে। এইক্ষেত্রে ১ম দিন পারমিশন না পেলে ২য় দিন পারমিশন পাওয়ার চান্স থাকে। যেদিন পারমিশন পাবেন সেদিন ভোর ৪:৩০ এ ড্রাইভারকে পিক করতে বলবেন। নাহলে গাড়ির সিরিয়াল অনেক বেশি হয়ে যাবে আর সময় নষ্ট হবে।

Day Five:
ভোরে ক্যাবে উঠে শিমলার লোকাল স্পটগুলায় যাই। লোকাল স্পটগুলার মধ্যে আছে জাখু মন্দির, গ্রীন ভ্যালি আর কুফরী। জাখুতে অনেক বানর, তাই চশমা আর ক্যামেরা সাবধান। কুফরীতে ঘোড়ায় চড়ে উঠতে হবে।

জনপ্রতি ঘোড়ার ভাড়া= ৫০০ রুপি (এটা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত)
ঘোড়ার খরচ একটু বেশি মনে হলেও এত দূর এসে এটা না করলে ইনকমপ্লিট থেকে যায়। ঘোড়ায় চড়ার পর মনে হয়েছে ৫০০ রুপি জলে যায় নি।
কুফরীতে ঢুকতে পথে আরো ২০রুপি দিতে হয়।

শিমলা ঘুরে আমরা দুপুর ২টা ১৫তে ক্যাবে করে মানালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। পথে দুপুরের খাবার সেরে নিই।

দুপুরের খাবার= ভাত+ডাল মাখনি (৩ জন খাওয়া যায়)= ১০০রুপি পারহেড

আমরা মানালি পৌছাই রাত সাড়ে দশটায়। হোটেল ছিল মল রোডের পাশেই “Hotel Shingar”

ভাড়া= ১৭৫ রুপি পারহেড

পরের দিন মানালির লোকাল স্পটগুলায় ঘুরতে যেতে পারেন। ম্যাক্সিমাম ৩-৪ঘন্টা লাগবে সবগুলা ঘুরতে। রাতের খাবার খেয়ে তাই ঘুম দিলাম।

রাতের খাবার = ১৪০ রুপি (মানালিতে দাম একটু বেশি)

Day Six:
আটটার দিকে বেরিয়ে নাস্তা সেরে নিলাম।
নাস্তাঃ আলু পরাটা,তাওয়া রুটি আর গোলাপ জামুন= ৪৭ রুপি

মানালির লোকাল স্পটগুলার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলাম। হাদিম্বা টেম্পল, ক্লাব হাউস, বনবিহার, ভাসিস্থ রাম মন্দির দেখে চলে এলাম মল রোডে।
মল রোডে Hotel Shingar এর পাশেই একটা বাঙ্গালি হোটেল আছে।
সেখানে দুপুরের খাবার খাই।

দুপুরের খাবার (চিকেন থালি) = ১৬০ রুপি

সন্ধ্যার দিকে মল রোডে গিয়ে বসলাম আর টুকটাক শপিং করলাম। পিউর লেদার বলে অনেক জ্যাকেট বিক্রি হয় সেখানে। বাংলাদেশের তুলনায় জ্যাকেটগুলা ভালো তবে একদম ভালোগুলা ৮০০-৯০০ রুপির বেশি দেয়া ঠিক হবে না।

রাতে মল রোড থেকে একটু সামনে এগিয়ে রোডের পাশ থেকে চিকেন ভুনা আর ব্রেড কিনে নিলাম।

চিকেন ভুনা= ৮০রুপি (দুইজন খাওয়া যাবে)
ব্রেড= ২০ রুপি (বড়টা)

Day Seven:
অক্টোবরের প্রথম দিকে অফসিজন থাকে তাই রোথাং এর উদ্দেশ্যে একটু দেরী করে ভোর সাড়ে ছয়টায় রওনা দিলাম। গাড়ি সেটাই যেটা আমাদের শিমলা থেকে মানালি নিয়ে আসছিল।
মানালি থেকে ৫০ কিমি দুরের রোথাং যাওয়ার রাস্তা দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এত বেশি এল্টিটিউডের রাস্তা কিভাবে এত সুন্দর থাকে? আঁকাবাকা পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে উঠে গেলা ১৩ হাজার ফিট উপরে।

রোথাং পৌছাতে আমাদের সকাল সাড়ে নয়টা-দশটা বাজলো। এখন বরফ নাই, কিন্তু হাড়কাপাঁনো ঠান্ডা আছে। নভেম্বরের শেষের দিক থেকে বরফ পড়া শুরু হয়। এখন দূরের পাহাড়গুলায় বরফ দেখা যায়।
রোথাং এ অনসিজনে (নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত) ঘোড়ায় চড়ে উপরে উঠা, প্যারাগ্লাইডিং হয়। প্যারাগ্লাইডিং করতে হলে ৩৫০০-৫০০০ রুপি গুনতে হবে।

মানালি থেকে দিল্লির সেদিন বিকেলের ৫:৩০ এর বাসের টিকেট কাটি হোটেলের মাধ্যমে।
মানালি টু দিল্লি এসি ভলভো বাস= ৯৫০রুপি
ইন্ডিয়ান বাসের অবস্থা আমাদের দেশের চেয়ে খুবই বাজে। ফাকা রাস্তায়ও তারা ৪০ এ চালায়। বাঙ্গালি হোটেলে খেয়ে মানালির হোটেল থেকে চেকআউট করে ৫:৩০ এ “ভলভো বাস স্ট্যান্ড” থেকে বাসে উঠে পড়ি। রাতের জন্য ১কেজি আপেল ৫০ রুপি দিয়ে কিনে নিই। এখানে আপেলের দাম তুলনামূলক কম আর মানও ভালো।

Day Eight:
ভোরে/সকাল ৭টার মধ্যে দিল্লি পৌছানোর কথা ছিল। পৌছালাম সকাল সাড়ে দশটায়।
দশটায় নিউ দিল্লি রেলস্টেশন থেকে আগ্রা যাওয়ার “Jheelum Express” ছিল। তবুও ট্রেন থাকেই আগ্রার এইভেবে নিউ দিল্লি রেলস্টেশন এ যাওয়ার জন্য উবার নিলাম। বলে রাখা ভালো ইন্ডিয়ায় মুভ করার জন্য ফোনে “Uber” ইন্সটল করা ফরজ। ভাড়া নরমাল থেকেও কম পড়ে।
উবারের ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম উনি আগ্রায় যায় নাকি?
বললেন যায়..৩২০০ রুপিতে যাওয়া-আসা।
নরমালি উবারে এই ভাড়া দেখায় ৬০০০রুপি। আমরাও আর দেরী না করে নিয়ে নিলাম। তবে ভাড়া প্রকৃতপক্ষে ৬০০০ রুপিই। উনি তাড়াহুড়ায় কম বলে ফেলসেন। 😀

আগ্রায় পৌছাতে বিকেল ৩টা বাজলো। তাজমহলের টিকেট কাউন্টার পার্কিং এর পাশেই।
তাজের টিকেট কাটতে ডকুমেট শো করতে হয়, ইন্ডিয়ানদের আধার কার্ড আর ফরেনারদের পাসপোর্ট। ইন্ডিয়ানদের জন্য যে টিকেট মাত্র “৪০” রুপি সেই টিকেটই ফরেনারদের জন্য “৫৩০” রুপি।
টিকেটের সাথে এক বোতল পানি, জুতার কভার দিবে সৌজন্য হিসেবে :3

তাজমহল ঢুকে গেলাম ফরেনার কোটায় সবার আগে আলাদা লাইনে। টাকা কথা বললে যা হয় আর কি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত তাজমহল খোলা থাকে। তাই সূর্যাস্ত টা বসে বসে দেখলাম তাজ থেকে।

আমাদের হাওড়া যাওয়ার কালকা মেইল Old Delhi Railway Station থেকে ছিল পরের দিন সকাল ৬:৫০ এ। আগ্রা থেকে আসার সময় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, রাতের খাবার ঢাবা তে সারি।
রাতের খাবারঃ রুটি, ডিম ভুর্জি আর কফি= ৭০ রুপি

Day Nine:
রেলস্টেশন পৌছাই রাত চারটায়। সকাল ৬:৫০ এ কালকা মেইল আসলো, উঠে গেলাম, টিকেট সেই ফেয়ারলি থেকে করা।
দিল্লি থেকে হাওড়া যেতে সময় লাগে পাক্কা ২৫ঘন্টা। পরের দিন সকাল ৮টায় হাওড়া পৌছায় এই ট্রেন। ট্রেনে খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম দেয়া ছাড়া বিশেষ কিছুই করার নাই, এটলিস্ট এত জার্নির পর আর কিছু করতে ইচ্ছাও করবে না।

সকালের নাস্তাঃ পুরি+সবজী(আলু)= ২০রুপি
দুপুরের খাবারঃ ডিম থালি= ১৩০ রুপি (২জনের)
রাতের খাবার= পুরি সবজী+ ডিম বিরিয়ানি(হাফ) = ৫৫ রুপি (১জনের)

Day Ten:
হাওড়া পৌছাই সকাল নয়টায়। হাওড়া থেকে শিয়ালদাহ চলে যাই বাসে। ভাড়া ৯রুপি। শিয়ালদাহ থেকে বনগাঁ যাওয়ার “বনগাঁ লোকালের” টিকেট কাটি ২০ রুপি দিয়ে। ১০:২৮ এ একটা ট্রেন আছে, ১১:২৮ এ একটা আছে। ১১:২৮ এর ট্রেনে বনগাঁ পৌছাই দুপুর ১:৩০ এ। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে সোজা বর্ডার। বর্ডার পার হয়ে গেলাম আধঘন্টার ব্যাবধানে।

বিঃদ্রঃ ইন্ডিয়ান কোন হোটেলেই এক রুমে ৩জনের বেশি এলাউ করে না, ৪জন এক রুমে থাকতে হলে এক্সট্রা বেডের টাকা দিতে হয়, ২০০-৩০০ রুপি পড়ে প্রতিদিনের হিসাবে।

হ্যাপি ট্রাভেলিং! তবে আগে দেশ ঘুরুন, পরে বিদেশ।

Post Copied From:রাহুল বণিক‎>Travelers of Bangladesh (ToB)