সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ক্যাম্পিং

ইদানিং ক্যাম্পিং এর বেশ ক্রেজ চলছে। সেই ক্রেজের টানে চলে গেলাম সেন্ট মার্টিন ক্যাম্পিং করতে এক বিশাল কাফেলার সাথে। সেই কাফেলার অরগানাইজার ছিল Sujauddin F. Sohan। জীবনের সেরা অভিজ্ঞতার মধ্যে অন্যতম ছিল এই ক্যাম্পিং ট্যুরটা। শিপ চালু না হওয়ায় আমাদের পুরো টীম ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। শেষ বিকেলে যখন তাবু পিচ করা শেষ করলাম তখন ক্লান্ত দেহটা এলিয়ে দিলাম তাবুর ভিতর। শুনতে পেলাম বে অফ বেংগলের উত্তাল গর্জন। রাত বারার সাথে সাথে আকাশে লক্ষ তারার আগমন। যেন তারার ঝলকানিতে আলোকিত করে ফেলবে পুরো দ্বীপ। দূর পানে চেয়ে থাকলে দেখা যায় মাছ ধরার নৌকা গুলোর মিটিমিটি আলো। আমার তাবু যেন তাবু নয় এ যেন বিলিয়ন স্টার হোটেল। আর আমি যেন হাওয়ায় পাওয়া মানুষ। এর সাথে যদি যোগ হয় খিচুড়ি হাশভুনা আর কি লাগে জীবনে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাবুর চেইনটা খুলে মুগ্ধ নয়নে সাগরের দিকে চেয়ে থাকতাম। সে এক বিরল অভিজ্ঞতা।

‌এই রকম অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ক্যাম্পিং করতে যেতে হবে সেন্ট মার্টিন। পুরা দ্বীপটাই ঘুরার মত। ঘুরবেন আর ডাব খাবেন। হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাস এক পলক দেখতে ভুলবেন না।
‌আর ছেড়া দ্বীপ অবশ্যই যাবেন। ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণের সর্বশেষ বিন্দু। দক্ষিণ দিকে এর পরে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখন্ড নেই। ছেড়া দ্বীপ পায়ে হেটে/ট্রলার করে যাওয়া যায়। ‌

পুরা ক্যাম্পিং ট্যুরে আমাদের খরচ হয়েছে মোট ৩৫০০ টাকা। এর সাথে মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছিল চা এর উপর মালাইয়ের লেয়ার।

‌কি ভাবে যাবেন : ঢাকা টু টেকনাফ বাসে। এরপর শিপ বা ট্রলারে সেন্ট মার্টিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *